নিষ্ঠুরভাবে মা হারানো শিশুগুলো কৈশোরে অবতীর্ন হতেই মনোবৈকল্যের শিকার হতে পারে। —- ডঃ এম. এস. কবীর জুয়েল।

বাচ্চাটি এখনো বুঝে উঠতে পারেনি, সে কি হারিয়েছে, তার ধারণা মা তাসলিমা বেগম রেণু কোথাও কিছুক্ষণ বা কিছুদিনের জন্য গিয়েছে, আবার তো চলে আসবে…
আসুন তুলনা করি–নীচের সারিতে রেণুর ছবির পাশের ছেলেটি আজ মানসিক বিভাগে এসেছে ওর বাবার সাথে, কারন অভাবের সংসারে সচ্ছলতা আনতে মা না জানিয়ে সৌদি চলে গেছে, রীতিমতো সাইকোসিস বা গুরুতর মানসিক উপসর্গ দেখা দিয়েছে ওর মাঝে, অথচ ছেলেটি কিশোর ও কলেজে পড়ুয়া। এখন ভেবে দেখুন সদ্য নির্মমতার শিকারে মা হারানো এই শিশু তুবা-র মাঝে কি কি মনোদৈহিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে? যখন সে বুঝে ফেলবে, তার মাকে মেরে ফেলা হয়েছে তার-ই স্কুলসম্মুখে, তার মা বার বার বলছিলো যে সে তার নিজ মেয়ের জন্য ভর্তিফর্ম নিতে এসছে, তবু গুজবজাত বীরগুলো বর্বর ভাবে রেণু বেগমকে মেরে ফেললো।

আমরা জানি মামলাজটে আমাদের বিচারে কিছু দীর্ঘসূত্রতা আছে, তাৎক্ষনিক অপরাধী সনাক্তকরণে আমাদের সীমাবদ্ধতা(Inadequate CC Tvs on Roads & School Premises) ও কিছু ত্রুটি আছে, তবুও সব ছাপিয়ে আমাদের আইনের ওপরেই শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, এভাবে আইন হাতে তুলে নেয়া কোন সভ্য জাতির পরিচায়ক হতে পারেনা। সব গুজবের একদিন আবসান হবে, স্কুলের সব মেয়ে বাচ্চাগুলো ধীরে ধীরে কিশোরীতে পরিণত হবে, ওরা প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে স্কুল চত্ত্বরে আনন্দ ফুর্তিতে মেতে উঠবে কিন্তু তুবা নামের এই শিশুটির কেবলই ঔ বিদ্যালয় সম্মুখে গেলে উক্ত দিনের কথা মনে পড়বে, ইহা অনেকটা অপ্রত্যাশিত ও অপ্রতিরোধ্য; ওর মাঝে সাভাবিকতা আসতে বহু সময় লেগে যাবে; এমনকি ঔ স্থানে না গেলেও এমন ঘটনা শুনলে বা দেখলে সে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়বে, এবং বছরান্তের এই দিনে সে দূঃসহ স্মৃতিকাতর হবে।
Time is the Best Healer but where the Moments are intolerable & horrific, How long will you wait for the EFT (Expected Favourable Time). সুতরাং
মেয়েটির জন্য আমাদের মানসিক বিভাগের সকল দরজা খোলা রইলো, তার কোন সহানুভূতিশীল পরিচিতজন এ পোস্ট দেখলে অবশ্যি আমাদের বনানী বা গুলশান সেন্টারে যোগাযোগ করবেন।
http://drkabirjewel.com/alternative-management-for-special-children/